Menu
ঢাকেশ্বরী মন্দির, ঢাকা

Gallery Images (3)

Temple Full Name


ঢাকেশ্বরী মন্দির, ঢাকা

Temple Description


ঢাকেশ্বরী মন্দির বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার অন্যতম প্রাচীন ও প্রধান হিন্দু মন্দির, যা দীর্ঘ শতাব্দী ধরে ভক্তি, আস্থা ও ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে। ঢাকেশ্বরী মন্দিরের মূল আকর্ষণ হলেন মা ঢাকেশ্বরী, যিনি শক্তির রূপে পূজিত হন। যার নামের অর্থ “ঢাকার ঈশ্বরী” বা “ঢাকার অধিষ্ঠাত্রী দেবী”। স্থানীয় জনশ্রুতি ও ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, এই মন্দির শুধু ধর্মীয় উপাসনার স্থান নয়, বরং এটি ঢাকার সাংস্কৃতিক ও সামাজিক জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। “জাতীয় মন্দির” হিসেবে এর মর্যাদা দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে অপরিসীম গৌরবের বিষয়।

প্রাচীন স্থাপত্য, মনোমুগ্ধকর পূজা-পার্বণ, এবং ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হিসেবে ঢাকেশ্বরী মন্দির আজও সমান শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় ভক্তদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। এখানে শুধু দেবী পূজিত হন না—একসঙ্গে সংরক্ষিত থাকে ধর্মীয় ঐতিহ্য, লোককথা, এবং ঢাকার হাজার বছরের ইতিহাসের এক অমূল্য অধ্যায়।

প্রবেশপথটি বেশ প্রশস্ত এবং সুরক্ষিত, যেখানে দর্শনার্থীদের জন্য গেটের পাশে নিরাপত্তা বুথ রয়েছে। ভেতরে ঢুকলেই চোখে পড়ে সুসজ্জিত প্রাঙ্গণ—পাথরের টাইলস, ফুলের বাগান, ও পূজার জন্য নির্ধারিত স্থান। প্রাঙ্গণের একপাশে রয়েছে সারিবদ্ধ শিবমন্দির, অন্য পাশে মূল গর্ভগৃহ যেখানে মা ঢাকেশ্বরীর মূর্তি বিরাজমান। চারপাশের পরিবেশ শান্ত ও ভক্তিময়; ধূপ-ধুনোর সুগন্ধ, ঘণ্টার ধ্বনি, আর ভক্তদের ভজনগান মন্দির চত্বরে এক আধ্যাত্মিক আবহ সৃষ্টি করে।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের উৎপত্তি নিয়ে বহু কিংবদন্তি প্রচলিত আছে, যার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় জনশ্রুতি হলো সেন রাজবংশের রাজা বল্লাল সেন সম্পর্কিত কাহিনী। ধারণা করা হয়, ১২শ শতাব্দীতে রাজা বল্লাল সেন স্বপ্নাদেশ লাভ করেন—স্বপ্নে মা ঢাকেশ্বরী তাঁকে নির্দেশ দেন একটি নির্দিষ্ট স্থানে খনন করতে। খনন করে তিনি মাটির নিচে দেবীর মূর্তি আবিষ্কার করেন এবং সেই স্থানে একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।

মন্দিরটি তার দীর্ঘ ইতিহাসে বহুবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে—প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং যুদ্ধের কারণে। প্রতিবারই ভক্তদের উদ্যোগে ও স্থানীয় সমাজের সহায়তায় মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়েছে। আজকের ঢাকেশ্বরী মন্দিরে প্রাচীন স্থাপত্যের ছাপ যেমন রয়ে গেছে, তেমনি আধুনিক নির্মাণশৈলীর সংযোজনও রয়েছে, যা এর দীর্ঘকালীন ইতিহাস ও পুনর্গঠনের সাক্ষ্য বহন করে।

মন্দিরের মূল গর্ভগৃহ নবরত্ন শৈলীতে নির্মিত—অর্থাৎ এর গম্বুজে রয়েছে নয়টি ক্ষুদ্র চূড়া, যা প্রাচীন বাংলা মন্দির স্থাপত্যের একটি বিশেষ ধারা। গর্ভগৃহের ভেতরে বিরাজমান মা ঢাকেশ্বরীর মূর্তি, চারপাশে পাথরের খোদাই করা নকশা এবং রঙিন অলংকার দিয়ে সজ্জিত। প্রাঙ্গণের পূর্ব দিকে সারিবদ্ধভাবে অবস্থিত চারটি শিবমন্দির, যা ছোট আকারের হলেও স্থাপত্যে সমান মনোমুগ্ধকর। প্রতিটি শিবমন্দিরে রয়েছে শিবলিঙ্গ, আর দেয়ালে খোদাই করা ফুল-লতা ও ধর্মীয় চিত্র। মন্দিরের পুরনো অংশে এখনো চুন-সুরকি ও লাল ইটের ব্যবহার দেখা যায়, যা মধ্যযুগীয় বাংলার স্থাপত্য উপকরণের পরিচয় বহন করে। সংস্কারের ফলে কিছু অংশে আধুনিক সিমেন্ট ও মার্বেলের কাজ হয়েছে, যা পুরনো ও নতুন রূপের এক সমন্বিত চিত্র তৈরি করেছে। বাইরের দেয়ালে সূক্ষ্ম খোদাই, খিলানযুক্ত প্রবেশদ্বার, আর রঙের সমন্বয়ে মন্দিরটি একাধারে ধর্মীয় আভিজাত্য ও স্থাপত্য শিল্পের নিদর্শন হয়ে উঠেছে। ইট, চুন-সুরকি, ও পাথরের সমন্বিত নির্মাণশৈলী মন্দিরটিকে দৃঢ় ও স্থায়িত্বশীল করেছে, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে টিকে আছে।

বিশ শতকের প্রথম দশকে ভাওয়াল পরগণার রাজা শ্রীযুক্ত রাজেন্দ্র নারায়ণ রায় বাহাদুর মন্দির পুনঃসংস্কার করে ২০ বিঘা ভূমি দেবোত্তর ভূমি হিসাবে রেকর্ডভুক্ত করেন। ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান সৃষ্টির পর সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, ১৯৪৮ সালে ভূমি অধিগ্রহণ (জরুরি) আইন, ১৯৬৪ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, ১৯৬৫-এর পাক-ভারত যুদ্ধ, ১৯৬৯ সালের শক্র সম্পত্তি আইন (যা পরবর্তীতে অর্পিত সম্পত্তি আইন) ইত্যাদি ঘটনার পরিক্রমায় কিছু স্বার্থান্বেষী আগন্তুক এবং কতিপয় অসাধু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জালিয়াতির মাধ্যমে ১৪ বিঘা জমি বেদখল হয়েছে।

গর্ভগৃহের কেন্দ্রে স্থাপিত দেবীর মূর্তি সাধারণত কালো পাথরের তৈরি এবং তাকে চার হাতে চিত্রিত করা হয়েছে—যেখানে অস্ত্র, পদ্মফুল ও আশীর্বাদের ভঙ্গি ফুটে ওঠে। মূর্তির সামনে সর্বদা ধূপ, প্রদীপ ও ফুলের অর্ঘ্য সাজানো থাকে, যা ভক্তদের ভক্তি ও শ্রদ্ধার প্রতীক। এছাড়াও মন্দিরের আশেপাশে ছোট ছোট মন্দির রয়েছে, যেখানে গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতী ও অন্যান্য দেব-দেবীর মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ পূজার সময় ভক্তরা দূর-দূরান্ত থেকে এসে দেবীর দর্শন নেন, ফলমূল, মিষ্টি, নারকেল ও প্রদীপ অর্পণ করেন। ঢাকেশ্বরী মন্দিরে দেবী দর্শনের মুহূর্তে ভক্তদের চোখে ভক্তির অশ্রু ও মুখে শান্তি ও আনন্দের হাসি ফুটে ওঠে, যা এই স্থানটির আধ্যাত্মিক তাৎপর্যকে আরও গভীর করে তোলে।

Temple Roadmap


ঢাকেশ্বরী মন্দির অবস্থিত ঢাকেশ্বরী রোডে, পুরান ঢাকার লালবাগ এলাকার নিকটে। এর সঠিক ঠিকানা হলো ঢাকেশ্বরী রোড, লালবাগ, ঢাকা-১২১১। মন্দিরটি ঢাকার কেন্দ্রস্থলে হওয়ায় শহরের প্রায় সব দিক থেকেই সহজে পৌঁছানো যায়।

TID: #938771

Quick Info

Type public
Category nava_ratna
Festival ঢাকেশ্বরী মন্দির সারা বছরব্যাপী নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু। এর মধ্যে দুর্গাপূজা সবচেয়ে বড় ও বর্ণাঢ্য আয়োজন, যা হাজারো ভক্তকে একত্রিত করে। মহাষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত প্রতিদিনই এখানে ধুমধাম করে পূজা, আরতি, ভজন-সঙ্গীত, এবং প্রসাদ বিতরণ হয়। দুর্গাপূজার সময় মন্দির চত্বর ফুল, আলোকসজ্জা ও রঙিন পতাকায় সজ্জিত থাকে, আর ভক্তদের ভিড় প্রায় সারাদিন অব্যাহত থাকে। এছাড়াও কালীপূজা, সরস্বতী পূজা, ও জন্মাষ্টমী এখানে অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও আনন্দের সঙ্গে পালিত হয়। জন্মাষ্টমীর রাতে বিশেষ শোভাযাত্রা হয়, যেখানে ভক্তরা শ্রীকৃষ্ণের নানা লীলা ও চরিত্রের প্রতীকী সাজসজ্জা নিয়ে মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে শহরের বিভিন্ন রাস্তা প্রদক্ষিণ করেন।
Location Dhaka South City Corporation, Dhaka District,Dhaka Division
Map Location Open In Maps
Need Contact Details?

আপনার যদি এই মন্দিরের নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা কমিটির মোবাইল নম্বর অথবা অতিরিক্ত তথ্যের প্রয়োজন হয়, তবে সরাসরি আমাদের হোয়াটসঅ্যাপে নক দিন। Temple ID: #938771

Chat Now

Share This Temple